সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা

নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

  • আপলোড সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-১২-২০২৫ ০৮:৪৮:২২ পূর্বাহ্ন
নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক গভীর উদ্বেগের চিত্র তুলে ধরেছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ- ৪৭ শতাংশের বেশি, নিজেদের জানমাল ও মূল্যবান সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। শারীরিক হামলা, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং লুটপাটের আশঙ্কা সমাজে এক ধরনের নীরব আতঙ্ক তৈরি করেছে, যা কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য মোটেই শুভ লক্ষণ নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রায় দেড় বছর পার হলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, জরিপের তথ্য তা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। সরকার ‘ডেভিল হান্ট’ ও ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর মতো অভিযানের ঘোষণা দিলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধে তার প্রতিফলন খুব সীমিত। বরং শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়, নিরাপত্তা উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি - যা প্রশাসনিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উদ্বেগের বিষয় হলো, নিরাপত্তাহীনতার এই অনুভূতি কেবল দরিদ্র বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জরিপ বলছে, ধনী শ্রেণীর মধ্যেও এই শঙ্কা তুলনামূলকভাবে বেশি। নারীদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগের হার পুরুষদের চেয়ে বেশি হওয়াও সমাজের কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একটি রাষ্ট্র তখনই নিরাপদ বলা যায়, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নাগরিকরা ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যেও একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা না নিতে পারলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয় - এটি একটি স্বীকৃত বাস্তবতা। রাজনৈতিক বিবেচনায় আইন প্রয়োগ হলে বা পুলিশের কার্যক্রমে ঢিলেমি থাকলে, অপরাধ প্রবণতা বাড়ে এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের ওপর ভরসা হারাতে শুরু করে। জরিপে ঘুষ দিয়ে সরকারি সেবা নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার তথ্যও সুশাসনের ঘাটতির দিকটি স্পষ্ট করে। পুলিশ সদর দপ্তর আইন-শৃঙ্খলার উন্নতির দাবি করলেও বাস্তবতা হলো- মানুষ এখনো নিজেকে নিরাপদ মনে করছে না। আইন মানার প্রবণতা কমে যাওয়ার দায় যেমন নাগরিকদের, তেমনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থারও দায়িত্ব রয়েছে আইনের কঠোর ও সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা যখন প্রকট, তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে উন্নয়ন, নির্বাচন কিংবা সংস্কার - সবই অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই প্রয়োজন প্রতীকী অভিযান নয়, বরং পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা। পুলিশের স্বাধীনতা, দ্রুত বিচার, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন এবং সামাজিক সচেতনতা - এই চার স্তম্ভের সমন্বয়েই কেবল মানুষের মধ্যে হারানো নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নিরাপত্তা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে এখনই কার্যকর, দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে - এটাই সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স